
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অভিবাসী সংকট নতুন করে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থা আইওএম জানিয়েছে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৯৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সংস্থাটির ভাষায়, ২০১৪ সালের পর এটি বছরের সবচেয়ে প্রাণঘাতী শুরুর একটি।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটছে কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগরীয় রুটে, বিশেষ করে লিবিয়া থেকে ইতালির দিকে যাত্রাপথে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে এই রুটেই অন্তত ৬৮৩ জন মারা গেছে। অপরদিকে এপি জানায়, কেন্দ্রীয় রুটে মৃত্যুর সংখ্যা ৭৬৫ পর্যন্ত পৌঁছেছে, যা দেখায় পরিস্থিতি কতটা দ্রুত খারাপ হয়েছে।
সর্বশেষ এক নৌদুর্ঘটনায় লিবিয়ার তাজৌরা এলাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি নৌকায় থাকা ১২০ জনের মধ্যে ৮০ জনের বেশি নিখোঁজ হয়েছেন। ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে ইতালির ল্যাম্পেডুসা দ্বীপে নেওয়া হয় এবং অন্তত ২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আইওএম বলছে, যুদ্ধ, দারিদ্র্য, খাদ্যসংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, সুদানসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ এই সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন। কিন্তু বৈরী আবহাওয়া, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌযান এবং সীমিত উদ্ধার তৎপরতা এই রুটকে আরও প্রাণঘাতী করে তুলছে।
সব মিলিয়ে জাতিসংঘের বার্তা স্পষ্ট—ভূমধ্যসাগর এখন শুধু অভিবাসনের পথ নয়, অনেকের জন্য মৃত্যুর ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মানবপাচার রোধ, নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থা এবং দ্রুত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ না নিলে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
