
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সপ্তাহব্যাপী সফরের উদ্দেশ্যে চীনের পথে রওনা হয়েছে। চীনা দূতাবাসের আমন্ত্রণে আয়োজিত এই সফরে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রতিনিধি দলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।
ডাকসু নেতাদের এই সফরকে ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও চীনের শিক্ষা, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এই সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সফরের আগে ডাকসু প্রতিনিধিদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় উপাচার্য প্রতিনিধি দলের সফল ও ফলপ্রসূ সফর কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি সফরকালীন তাদের সুস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং সার্বিক কল্যাণ কামনা করেন।
১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলে রয়েছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, এজিএস মহিউদ্দিন খান, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক ফাতেমা তাসনিম জুমা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার, কমন রুম, রিডিং রুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক উম্মে ছালমা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসীমউদ্দিন খান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বি, ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ এবং মানবাধিকার ও আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. জাকারিয়া।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহব্যাপী এই সফরে ডাকসু প্রতিনিধিদল চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ছাত্রসংসদ, শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র এবং অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করবেন। এছাড়াও তারা চীনের ঐতিহ্যবাহী, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক সফর শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে। একইসঙ্গে শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ডাকসু নেতাদের এই সফরকে স্বাগত জানিয়েছেন। কেউ বলছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে। আবার কেউ মনে করছেন, বিদেশ সফর থেকে অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের শিক্ষা ও ছাত্ররাজনীতির উন্নয়নে কাজে লাগানো উচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক বর্তমানে অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। ফলে ছাত্রনেতাদের এই সফর দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি দলের বিদেশ সফর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত আলোচনায় আসে। বিশেষ করে ডাকসুর মতো ঐতিহাসিক ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে তরুণদের আগ্রহ অনেক বেশি।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিধি দলের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। কেউ কেউ আশা প্রকাশ করেছেন, এই সফর থেকে নতুন ধারণা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময় কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করতে সহায়তা করে। একইসঙ্গে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং নেতৃত্ব বিকাশেও এসব সফরের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে “DUCSU China Tour”, “Sadik Kayem”, “Dhaka University” এবং “China Embassy Invitation” বিষয়গুলো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ফেসবুক, ইউটিউব ও এক্সে অনেকে সফরের ছবি ও ভিডিও শেয়ার করছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুত উন্নয়নশীল খাত। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য চীনের বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
সব মিলিয়ে, চীনা দূতাবাসের আমন্ত্রণে ডাকসুর ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদলের সপ্তাহব্যাপী চীন সফর দেশের শিক্ষা ও ছাত্ররাজনীতির অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আগামী দিনে এই সফরের অভিজ্ঞতা এবং সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে আরও আলোচনা দেখা যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
