
ভারতের Uttar Pradesh-এর হামিরপুর জেলায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে।
প্রবল ঝড়ের মধ্যে নির্মাণাধীন একটি সেতুর অংশ ধসে পড়ে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় শুরু হয়েছে উদ্ধার অভিযান।
স্থানীয় প্রশাসন জানায়, হামিরপুর জেলার কুরারা থানা এলাকার কান্দৌর-মোরাকান্দার সেতুতে রাতের শিফটে নির্মাণকাজ চলছিল।
রাত প্রায় ২টার দিকে হঠাৎ করেই সেতুর একটি বড় স্ল্যাব ধসে পড়ে।
এ সময় সেখানে কাজ করা শ্রমিকদের কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
Arvind Kumar Verma, হামিরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি), জানান যে এসডিআরএফসহ বিভিন্ন উদ্ধারকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
তিনি বলেন, রাত ২টার দিকে স্ল্যাব ধসে পড়ে এবং বেশ কয়েকজন আটকা পড়েন।
এ পর্যন্ত পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার ও শনাক্ত করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল ও দুর্ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন।
অনেকে স্বজনদের খোঁজে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
Yogi Adityanath এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
তিনি নিহতদের পরিবারের জন্য ৫ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার রুপি অনুদান ঘোষণা করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে নির্মাণাধীন অবকাঠামো প্রকল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে।
বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় নির্মাণকাজ চালানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, ঝড়-বৃষ্টি বা দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে নির্মাণকাজে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দুর্ঘটনার সময় এলাকায় প্রবল ঝড় ও খারাপ আবহাওয়া বিরাজ করছিল।
অনেকে ধারণা করছেন, এর প্রভাবেই সেতুর নির্মাণাধীন অংশ দুর্বল হয়ে পড়ে ধসে যেতে পারে।
তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
প্রকৌশল বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় অবকাঠামো নির্মাণে মান নিয়ন্ত্রণ, প্রকৌশল তদারকি এবং শ্রমিক নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তারা বলছেন, প্রতিটি নির্মাণ প্রকল্পে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অনেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।
আবার অনেকে নির্মাণ প্রকল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
Civil Engineering বিশেষজ্ঞদের মতে, সেতু নির্মাণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আবহাওয়া, উপকরণের মান এবং প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা সবসময় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
তারা বলছেন, দ্রুত কাজ শেষ করার চাপের কারণে নিরাপত্তা অবহেলা করা হলে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।
সব মিলিয়ে, উত্তরপ্রদেশের হামিরপুরে নির্মাণাধীন সেতু ধসে পাঁচজনের মৃত্যু এবং আরও বহু মানুষ আটকা পড়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক নেমে এসেছে।
উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রশাসন দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে।
