রংপুর কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রংপুর মহানগরীর কোতোয়ালি থানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাকে মারধর করে আহত করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করেছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যাকে ঘিরে অভিযোগ
মারধরের অভিযোগ করা ব্যক্তি হলেন রংপুর সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
তার দাবি, বুধবার রাতে কোতোয়ালি থানার ভেতরে ওসি আজাদ রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর হামলা চালান এবং তাকে গুরুতরভাবে আহত করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ওসি।
কীভাবে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর সিও বাজার এলাকায় এক প্রেমিক যুগলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছিল।
পরে ওই যুগলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরিবারের অনুরোধে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের কয়েকজন নেতা থানায় যান। তাদের মধ্যে রাকিবুল ইসলামও ছিলেন।
রাকিবুল ইসলামের অভিযোগ
রাকিবুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, থানায় গিয়ে তিনি দেখতে পান উদ্ধার হওয়া যুগলকে এক পুলিশ সদস্য মারধর করছেন।
তিনি বিষয়টির প্রতিবাদ করলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এরপর কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার দাবি, তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় এবং এক পর্যায়ে রাইফেলের বাঁট দিয়েও আঘাত করা হয়।
থানার সামনে উত্তেজনা
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা থানার সামনে জড়ো হন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে থানার মূল গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ সময় থানার ভেতর থেকেই সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাকিবুল ইসলাম।
সাংবাদিকদের সামনে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন এবং চোখে ফোলাভাব দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
বিচার দাবি
রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, বারবার নিজের রাজনৈতিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, তার দুটি মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান।
পুলিশের অবস্থান
ঘটনার পর রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
জনমনে প্রশ্ন
ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। থানার মতো একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এমন অভিযোগ উঠায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
অনেকেই তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
উপসংহার
রংপুর কোতোয়ালি থানায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে মারধরের অভিযোগ এবং পরবর্তীতে তিন পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহারের ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অবস্থানের মধ্যে এখন সবার নজর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে।
