
হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রায় রানিং এমপি ও পর্দানশীন নারী নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর ওপর পুরুষ পুলিশের ধাক্কাধাক্কির অভিযোগ। বালুর ট্রাক ও ট্রাক্টরের ব্যারিকেড উপেক্ষা করে পথ চলছেন এনসিপি নেতারা, পরিস্থিতিতে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।
হবিগঞ্জে রানিং এমপি ডা. মাহমুদা মিতুকে ধাক্কাধাক্কি: বালুর ট্রাকের ব্যারিকেড ও বিজিবি মোতায়েনে চরম উত্তেজনা
অনলাইন ডেস্ক: হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ‘চায়ের দেশে স্বাগতম’ খ্যাত জেলাটিতে এনসিপির অল্পসংখ্যক নেতাকর্মীর পদযাত্রা থামাতে পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ব্যারিকেড। এ সময় রানিং এমপি ও পর্দানশীন নারী নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুর ওপর পুরুষ পুলিশ সদস্য কর্তৃক হাত তোলা ও ধাক্কাধাক্কি করার অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
এমপি ডা. মাহমুদা মিতুর ওপর পুলিশি আচরণের অভিযোগ
ঘটনাস্থল থেকে জানা যায়, এনসিপির পদযাত্রাটি এগোতে চাইলে পুলিশ সদস্যরা বাধা দেয়। একপর্যায়ে রানিং এমপি ও পর্দানশীন নারী নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতুকে পুরুষ পুলিশ সদস্যরা ধাক্কাতে ধাক্কাতে পেছনে হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। একটি অসামরিক ও গণতান্ত্রিক সমাজে একজন নারী এমপি এবং বিশেষ করে একজন পর্দানশীন নারীর প্রতি এমন আচরণ অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য বলে সামাজিক মাধ্যমে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
আওয়ামী লীগের কৌশল এখন বিএনপির কাঁধে?
একই সঙ্গে এনসিপির নেতাদের থামাতে সড়কের ওপর অসংখ্য খালি ট্রাক, বালুর ট্রাক ও ট্রাক্টর দাঁড় করিয়ে পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে আওয়ামী লীগ যেভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বাসভবনের সামনে বালুর ট্রাকের ব্যারিকেড সৃষ্টি করেছিল, আজ ঠিক একই কৌশল দেখা যাচ্ছে। সেদিন ছাত্রদল কিংবা যুবদল যে পথ অতিক্রম করার সাহস দেখায়নি, আজ সেই পুরনো কৌশলেই এনসিপিকে আটকানোর চেষ্টা চলছে।
‘২৪-এর জেন-জিদের ক্ষ্যাপাবেন না: কড়া বার্তা
ব্যারিকেডের তোয়াক্কা না করে এনসিপির মাত্র ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী অবিচল থেকে সামনে এগোনোর চেষ্টা চালিয় যান। পরিস্থিতির অবনতি দেখে হবিগঞ্জ শহরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে।
বিক্ষুব্ধ নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আপনারা কোন দিকে যাচ্ছেন? জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে কিন্তু স্বৈরাচাররা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিল আর সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল এরাই, যাদের আজ আপনারা পথ আটকে রাখাচ্ছেন। ২৪-এর জেন-জি (Gen Z) প্রজন্মকে ক্ষ্যাপাবেন না, পরে কিন্তু সেই পরিস্থিতি কেউ সামাল দিতে পারবেন না।”
