
শহীদ পরিবারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে ফেরার পথে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। সারজিস আলম ও ডা. মাহমুদা মিতুসহ অন্য নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ। পড়ুন বিস্তারিত।
অনলাইন ডেস্ক:
হবিগঞ্জের ঘটনার উত্তাপ কাটার আগেই এবার সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতৃবৃন্দের ওপর ভয়াবহ ও অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ আলোচনা ও সংহতি জানানোর অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে এনসিপির বহরকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়।
এনসিপি নেত্রী ডা. মাহমুদা মিতু এক প্রত্যক্ষদর্শী বিবরণী ও বার্তায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেছেন, “তারা মূলত আমাদের মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালিয়েছে। হামলায় আমাদের গাড়ির ডান পাশের এবং পেছনের গ্লাসগুলো পুরোপুরি গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে গেছে।”
গাড়িতে ছিলেন সারজিস আলম ও মাহমুদা মিতু
জানা যায়, গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের স্বজনদের সান্ত্বনা দিয়ে ফেরার পথে আচমকা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে গাড়িবহরে হামলে পড়ে। হামলার সময় গাড়িটির ভেতরে সারজিস আলম, ডা. মাহমুদা মিতুসহ সংগঠনের বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা অবস্থান করছিলেন।
ইটের আঘাতে গাড়ির গ্লাস চুরমার হয়ে ভেতরে থাকা নেতাদের ওপর এসে পড়ে। তবে অল্পের জন্য বড় ধরনের প্রাণহানি থেকে রক্ষা পান এনসিপি নেতারা।
নেতৃত্বের ক্ষোভ ও রাজনৈতিক উত্তাপ
ঘটনার পর এনসিপির তরফ থেকে এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। হামলাকারীদের সরাসরি চিহ্নিত করে বিএনপির নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন এনসিপির নেতৃবৃন্দ।
ডা. মাহমুদা মিতু বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানান, রাজনীতিতে এই ধরনের সহিংস আচরণ ও সহনশীলতার অভাব কোনো শুভ বার্তা বহন করে না। কোনো রাজনৈতিক নেতার কাছে জবাবদিহিতা চাওয়াকে ‘বেয়াদবি’ হিসেবে গণ্য করা হলে রাজপথের সন্ত্রাস থামবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এদিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর পুরো জেলায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে ঘটনার পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন এনসিপি সমর্থকরা।
