
জুলাই অভ্যুত্থানের সরকারি ডকুমেন্টারিতে শহীদ আবু সাঈদের ছবি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কদের ফুটেজ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি। এক দফার ঘোষক বিতর্ক ও ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগে অনুষ্ঠানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং নিরাপত্তার স্বার্থে বিদেশি কূটনীতিকরা স্থান ত্যাগ করেন। জানুন বিস্তারিত।
নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত সরকারি ডকুমেন্টারি নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। প্রদর্শিত চলচ্চিত্রে অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের ছবি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল ভিডিও ফুটেজ এবং আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আসিফ মাহমুদ, সাদিক কায়েমদের মতো শীর্ষ সমন্বয়কদের অবদান তুলে না ধরায় চরম অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখার সময় রাষ্ট্রপতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে জুলাই আন্দোলনের মূল প্রতীক শহীদ আবু সাঈদের ছবিই নেই, সেটা কোনো পূর্ণাঙ্গ বা সঠিক ডকুমেন্টারি হতে পারে না। এটি একটি মারাত্মক ভুল।” রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য এবং নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রচারিত উক্ত ডকুমেন্টারিতে গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ‘এক দফা’ ঘোষণার মূল চরিত্র হিসেবে ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের নাম উপস্থাপন করার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধারা তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানান। আন্দোলনকারীদের মতে, দেশের জনগণ দেখেছে কীভাবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম এক দফার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২৪-এর রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস ছিনতাই করার যেকোনো চেষ্টা সাধারণ মানুষ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।
অনুষ্ঠানস্থলে ইতিহাস বিকৃতির প্রতিবাদে হট্টগোল ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে জীবনের নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষার স্বার্থে সেখানে উপস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। ২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের সঠিক ও নিরপেক্ষ ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি এখন সর্বস্তরে জোরদার হচ্ছে।
