
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে হাসপাতাল থেকে পুনরায় রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে স্থানান্তর করা হয়েছে। কার্ডিওলোজিস্ট, চক্ষু বিশেষজ্ঞ এবং জেনারেল ফিজিশিয়ানসহ অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে তাঁকে চিকিৎসাগতভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ ও ফিট ঘোষণা করার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
পাকিস্তান সরকারের কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষিয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞ টিম দ্বারা পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা
তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার জানান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারীরিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে শীর্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে তাঁর যাবতীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। পরীক্ষা টিমে একজন প্রখ্যাত কার্ডিওলোজিস্ট (হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ), আই স্পেশালিস্ট (চক্ষু বিশেষজ্ঞ) এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
পরীক্ষার সমস্ত রিপোর্ট পর্যালোচনার পর মেডিক্যাল বোর্ড তাকে ‘মেডিক্যালি ফিট’ বা সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষণা করে। এরপর যাবতীয় নিয়ম মেনে তাঁকে হাসপাতাল থেকে আবার আদিয়ালা কারাগারে নেওয়া হয়।
সমর্থক ও দলের উদ্বেগ
ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বেশ কিছু দিন ধরেই তাঁর রাজনৈতিক দল পিটিআই এবং সমর্থকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ছিল। পিটিআই নেতাদের অভিযোগ ছিল, ৭২ বছর বয়সী এই রাজনৈতিক নেতাকে কারাগারে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তবে সরকারের তরফ থেকে বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানানো হয় যে, কারাবিধি অনুযায়ী তাঁেক সর্বোচ্চ পর্যায়ের চিকিৎসা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী আত্তা তারার বলেন, “ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে যেসব গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছিল, ডাক্তারদের রিপোর্ট তার সম্পূর্ণ বিপরীত। তিনি বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছেন এবং কারাগারেই প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ বজায় রাখা হবে।”
আইনি জটিলতা ও আদিয়ালা কারাগার
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের আগস্ট মাস থেকে বিভিন্ন মামলায় কারাবন্দি রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেট তারকা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তোশাখানা, সাইফার এবং আল-কাদির ট্রাস্টসহ একাধিক মামলায় তাঁকে দণ্ড ও রিমান্ডে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি রাওয়ালপিন্ডির সুরক্ষিত আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন।
ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার খবরাখবরের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল ও তাঁর লাখ লাখ অনুরাগী।
