
বিশেষ প্রতিনিধি, কালিয়া (নড়াইল): নড়াইলের কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে একটি মেহগনি বাগান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি অবৈধ বিদেশি একনালা বন্দুক উদ্ধার করেছে কালিয়া থানা পুলিশ। গত রাতে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এই মারণাস্ত্রটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে পুরো রঘুনাথপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল জেলা পুলিশের সার্বিক দিকনির্দেশনায় কালিয়া থানা পুলিশ কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস দমন ও শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার লক্ষ্যে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিল। এরই অংশ হিসেবে কালিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পায় যে, রঘুনাথপুর গ্রামের ফজলুর রহমান ওরফে ফজলু মাষ্টারের ছেলে শাহিন শেখের বসতঘরের পার্শ্ববর্তী মেহগনি বাগানে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারীরা একটি আগ্নেয়াস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে।
অভিযান পরিচালনা ও অস্ত্র উদ্ধার
গোপন সংবাদ পাওয়ার পরপরই কালিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর নেতৃত্বে একটি টিম রঘুনাথপুর গ্রামে অভিযান শুরু করে। পুলিশের দলটি শাহিন শেখের মেহগনি বাগানটি চতুর্দিক থেকে ঘেরাও করে ফেলে এবং ভেতরে সূক্ষ্ম তল্লাশি চালায়। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালানোর পর বাগানের এক কোণে শুকনো পাতা ও ঝোপঝাড়ের নিচে ঢেকে রাখা অবস্থায় পরিত্যক্ত একটি বড় আকারের বিদেশি একনালা বন্দুক পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করে জব্দ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং কালিয়া থানায় নিয়ে যায়। কালিয়া থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে উদ্ধারকৃত অস্ত্রটি একটি সচল বিদেশি একনালা বন্দুক (Single-barrel Shotgun/Gun)।
এলাকা জুড়ে আতঙ্ক ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা মেহগনি বাগান ও আশপাশের এলাকায় ভিড় জমান। ফজলুর রহমান ওরফে ফজলু মাষ্টার এলাকার একজন পরিচিত ব্যক্তিত্ব হওয়ায় তাঁর ছেলে শাহিন শেখের জমিতে অবস্থিত বাগানে অস্ত্র পাওয়ার ঘটনা নিয়ে চলছে নানা হিসেব-নিকাশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হুট করে মেহগনি বাগানে এই ধরনের বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গ্রামের সাধারণ মানুষ ধারণা করছেন, এলাকায় কোনো বড় ধরনের নাশকতা, সহিংসতা বা আধিপত্য বিস্তারের ছক আঁকতেই কোনো সন্ত্রাসী দল গোপন আস্তানা হিসেবে বাগানটিকে ব্যবহার করে অস্ত্রটি লুকিয়ে রেখেছিল। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, পুলিশি অভিযানের হাত থেকে বাঁচতে অপরাধীরা তড়িঘড়ি করে অস্ত্রটি সেখানে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে।
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
কালিয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের এই ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। পুলিশ অস্ত্রটির উৎস ও মালিকানা শনাক্তের কাজ শুরু করেছে।
কালিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, “আমরা একটি সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে শাহিন শেখের মেহগনি বাগানে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি সচল বিদেশি একনালা বন্দুক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। অস্ত্রটি কে বা কারা সেখানে কী উদ্দেশ্যে রেখেছিল, তা বের করতে কালিয়া থানা পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। অস্ত্র আইন (Arms Act)-এর আওতায় এ বিষয়ে একটি পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
পুলিশ কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, “নড়াইল জেলাকে সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্র মুক্ত করতে আমাদের এই চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো দুষ্কৃতকারী বা সন্ত্রাসী দলকে কালিয়ার মাটিতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না।”
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
উল্লেখ্য, কালিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাঝেমধ্যেই সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একাধিক গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকে। এসব সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখতে কালিয়া থানা পুলিশ সম্প্রতি বিশেষ নজরদারি ও চেকপোস্ট কার্যক্রম জোরদার করেছে। এমন পরিস্থিতিতে মেহগনি বাগান থেকে উদ্ধার হওয়া এই বিদেশি একনালা বন্দুকটি এলাকার সার্বিক নিরাপত্তায় এক বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কালিয়া থানা পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
