
বিশেষ প্রতিনিধি, নড়াইল: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ মাদকদ্রব্যসহ শাশুড়ি ও তাঁর মেয়ের জামাইকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। ৩১ আগস্ট বিকেলে উপজেলার পাঁচুড়িয়া গ্রামে এ সফল অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় তাদের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ১ কেজি গাঁজা এবং ১০১ পিস বিপজ্জনক ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে গড়ে ওঠা এমন অশুভ মাদক কারবারের ঘটনা জানাজানি হতেই পুরো পাঁচুড়িয়া গ্রাম এবং লোহাগড়া উপজেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযানের প্রেক্ষাপট ও তল্লাশি:
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) নড়াইল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, লোহাগড়া উপজেলার পাঁচুড়িয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক কেনাবেচা ও সরবরাহের একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। নড়াইল ডিএনসি-এর একটি বিশেষ দল ৩১ আগস্ট বিকেলে পাঁচুড়িয়া গ্রামে অভিযানে নামেন।
অভিযানকালে সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচুড়িয়া গ্রামের মোঃ ইউসুফ শেখের স্ত্রী সীমা বেগম (৩৮) এবং তাঁর মেয়ের জামাই একই গ্রামের মোঃ রাসেল শেখকে (২১) আটক করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্য ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ইউসুফ শেখের বসতঘরের একটি গোপনীয় স্থান থেকে ১ কেজি গাঁজা এবং ১০১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাদকের বিবরণ:
| উপাদান / বিবরণ | পরিমাণ / তথ্য | বিস্তারিত অবস্থান |
| গাঁজা | ১ কেজি | বসতঘরের বিশেষ স্থানে রাখা |
| ইয়াবা ট্যাবলেট | ১০১ পিস | তল্লাশিকালে উদ্ধারকৃত |
| গ্রেপ্তারকৃত আসামি | ২ জন | সীমা বেগম (৩৮) ও মোঃ রাসেল শেখ (২১) |
| অভিযান পরিচালনকারী | ডিএনসি টিম | নড়াইল জেলা কার্যালয় |
এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ:
পারিবারিক সম্পর্কের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে শাশুড়ি ও জামাই মিলে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হওয়ার সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে চরম ধিক্কার ও ক্ষোভ প্রকাশ পায়।
পাঁচুড়িয়া গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, মাদক সমাজ ও পরিবারকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। উঠতি বয়সী তরুণ-যুবকদের মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা করতে এই ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।
আইনি পদক্ষেপ ও পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এলাকাভিত্তিক মাদক বিক্রির সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে লোহাগড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত সীমা বেগম ও মোঃ রাসেল শেখকে লোহাগড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে নড়াইল জেলহাজতে প্রেরণের প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে।
লোহাগড়া থানার কর্মকর্তা জানান, এলাকাকে শতভাগ মাদকমুক্ত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে এবং কোনো মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না।
