
দীর্ঘ সাড়ে ৫ মাসের চিকিৎসা শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন: প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে নিজ কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু করলেন মির্জা আব্বাস
জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে বিশেষ প্রতিনিধি: দীর্ঘ প্রায় সাড়ে পাঁচ মাস ধরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় নিবিড় চিকিৎসা সেবা গ্রহণ শেষে দেশে ফিরেই দাপ্তরিক কাজে মনোনিবেশ করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস-এমপি। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) তিনি প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত তাঁর নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হন এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন।
তাঁর এই কার্যালয়ে উপস্থিতি এবং কর্মব্যস্ততার মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে তাঁর শারীরিক অসুস্থতা ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, তার সুসংবাদ ও স্বস্তির বার্তা পেলেন দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
জাতীয় সংসদ ভবনের অফিসে প্রথম দিনের ব্যস্ততা
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাতীয় সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে উপস্থিত হন মির্জা আব্বাস। কার্যালয়ে পৌঁছালে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দাপ্তরিক কাজ শুরুর পর তিনি পেন্ডিং থাকা গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র পর্যালোচনা করেন এবং সহকারীদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
সামাজিক মাধ্যমে এবং গণমাধ্যমে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস-এমপি আজ প্রথম জাতীয় সংসদে তার নিজ অফিসে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেছেন। তিনি তাঁর শারীরিক সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়ার আবেদন জানিয়েছেন এবং নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের মাধ্যমে জনসেবা অব্যাহত রাখার দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পটভূমি
এর আগে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১০টায় সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ চিকিৎসা সফর শেষ করে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এই প্রবীণ রাজনীতিক। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা। সাড়ে ৫ মাসের দীর্ঘ এই শারীরিক সংগ্রাম শেষে সুস্থ দেহে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে আসতে পেরে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন।
১১ মার্চের সেই আকস্মিক অসুস্থতা ও এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বিদেশ যাত্রা
মির্জা আব্বাসের এই দীর্ঘ চিকিৎসা যাত্রার শুরু হয়েছিল চলতি বছরের ১১ মার্চ। ওই দিন পবিত্র রমজান মাসের ইফতারের মুহূর্তে পানি পান করতে গিয়ে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং মুহূর্তের মধ্যেই জ্ঞান হারান।
ঘটনার আকস্মিকতায় উপস্থিত স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রাথমিক শুশ্রূষা দিলেও অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। ওই দিন গভীর রাতে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখার পরও তাঁর স্বাস্থ্যের কাঙ্ক্ষিত উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে বিদেশে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত ১৫ মার্চ উন্নত ও আধুনিক চিকিৎসার লক্ষ্যে তাঁকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স যোগে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে বেশ কিছুদিন জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান তিনি। সিঙ্গাপুরে প্রাথমিক জটিলতা কেটে যাওয়ার পর অধিকতর পুনর্বাসন ও ফলোআপ চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁকে মালয়েশিয়ায় স্থানান্তরিত করা হয়। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ মাসের সফল চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
মির্জা আব্বাসের চিকিৎসা ও প্রত্যাবর্তনের মূল ঘটনাবলী (Timeline)
| তারিখ | বিশেষ ঘটনাবলী ও চিকিৎসাক্রম |
| ১১ মার্চ | ইফতারের সময় হঠাৎ পানি পান করতে গিয়ে জ্ঞান হারান এবং গভীর রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। |
| ১৫ মার্চ | শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করা হয়। |
| মধ্যবর্তী সময় | সিঙ্গাপুরে সফল অস্ত্রোপচার ও নিবিড় পরিচর্যা শেষে পরবর্তী চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়ায় গমন। |
| ২ সেপ্টেম্বর (রাত ৯:৪৫) | সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে সাড়ে ৫ মাস পর দেশে প্রত্যাবর্তন। |
| ৩ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) | প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে নিজ কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে দাপ্তরিক কাজের সূচনা। |
রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বস্তি ও ইতিবাচক প্রভাব
জাতীয় সংসদ ভবনে প্রবীণ ও অভিজ্ঞ এ রাজনীতিকের উপস্থিতি ও কাজ শুরু করায় বিএনপির তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সকল স্তরের রাজনীতিবিদের মাঝে এক ধরনের নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে সংসদে তাঁর এই সক্রিয় অংশগ্রহণ সরকারের নীতি নির্ধারণী ও সংসদীয় কাজে গতিশীলতা আনবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি মির্জা আব্বাস উপস্থিত সহকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শারীরিক অসুস্থতা মানুষের জীবনের স্বাভাবিক পরীক্ষা। দেশবাসী, দলীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসায় এবং মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং আবার জনগণের কাজে আত্মনিয়োগ করতে প্রস্তুত হয়েছেন।
