
ধরুন, আজ হাসপাতালে এক শিশু জন্ম নিলো। সাথে সাথেই হাসপাতাল থেকে তার নামে একটি আইডি খোলা হবে। যা সরাসরি জাতীয় সার্ভারে আবেদন আকারে যুক্ত হয়ে যাবে। সরকার বা অ্যাডমিন কর্তৃপক্ষ সেই আবেদনের সব তথ্য ভেরিফাই করবে। সেটা অ্যাপ্রুভ করার সাথে সাথে দেশের জনসংখ্যায় একজন নতুন করে যুক্ত হয়ে যাবে।
যে শিশু বাসায় জন্ম নিলো তাকেও পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল থেকে জাতীয় সার্ভারে যুক্ত হওয়ার আবেদন করতে হবে। এতে নবজাতক ও মায়ের স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমবে। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালেই এই সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। আর এটিই হবে নবজাতকের প্রথম কার্ড যাতে থাকবে একটি স্বতন্ত্র আইডি। আর এই কার্ডটিই সারা জীবন বয়ে বেড়াবে একজন বাংলাদেশি।
যতবার চিকিৎসা লাগেবে বা টিকা নেবে ততবারই এই কার্ডের ব্য বহার হবে। হাসপাতাল বা টিকাকেন্দ্র ঐ শিশুর আপডেটেড তথ্য জাতীয় সার্ভারে ইনপুট দিতে পারবে। কিন্তু সেটা চূড়ান্ত আপডেট দেওয়ার ক্ষমতা সরকার নিয়োজিত বিভাগের হাতে থাকবে। সেখানে অবশ্যই দক্ষ কর্মী থাকলে ভুল বা বিভ্রান্তি তৈরির সুযোগ কম হবে।
এছাড়া, প্রতিবারের আপডেট তথ্য ঐ শিশুর অভিভাবকের কাছে মেইলে বা মোবাইল মেসেজ পৌঁছে যাবে, যাতে কোনো ভুল হলে সাথে সাথে তিনিও তা শুধরে দেওয়ার আবেদন করতে পারেন। তার মানে এই একটি কার্ডের মাধ্যমে বা জন্মনিবন্ধন নম্বরের মাধ্যমে শিশুর আজীবন চিকিৎসা-টিকা নিশ্চিত হয়ে গেল। এবং জাতীয় সার্ভারে সেটা যুক্ত হয়ে গেল। যদি কেউ বাদ পড়ে থাকে তবে শিশুর অভিভাবক মেইলের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবে বা কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য পাবে যে শিশুটি টিকা নেয়নি। সরকার চাইলে সাথে সাথে তার অভিভাবককে সতর্কও করতে পারবে।
এবার শিশুকে ভর্তি করতে হবে স্কুলে। যেহেতু আমাদের দেশে বাংলা মিডিয়াম, ইংরেজি মিডিয়াম, ইংলিশ ভার্সন, মাদ্রাসা, কিন্ডারগার্টেন, সরকারি-বেসরকারি নানা ধরনের স্কুল রয়েছে, তাই তাদেরও একটা তথ্যভান্ডার জাতীয় সার্ভারে যুক্ত করতে হবে। এই সার্ভারে যুক্ত হওয়া ছাড়া কেউ শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না এমন কড়াকড়ি আরোপ করতে হবে।
