
প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের কোরবানির চামড়ার দাম মূলত আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। বিশ্ব অর্থনীতির প্রভাব, চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা এবং রপ্তানি বাজার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের চামড়া শিল্প এবং চামড়ার বাজার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন Mohammad Amin Ur Rashid। তিনি বলেছেন, দেশের কোরবানির সময় সংগ্রহ করা চামড়ার বড় অংশ উন্নত মানের হলেও এর মূল্য নির্ধারণে স্থানীয় বাজারের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির প্রভাব বেশি।
শনিবার কুমিল্লায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মোট সংগৃহীত কোরবানির চামড়ার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এ এবং বি গ্রেডের হয়ে থাকে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তুলনামূলক ভালো মানের হিসেবে বিবেচিত।
মন্ত্রী বলেন, অনেকেই মনে করেন দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়লে চামড়ার দাম বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু বাস্তবে চামড়া শিল্পের একটি বড় অংশ রপ্তানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা ও মূল্যই বেশি প্রভাব ফেলে।
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব
Economics বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তনের সঙ্গে চামড়ার বাজারের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কমে গেলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এর প্রভাব দেশের কাঁচা চামড়ার বাজারেও পড়ে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক অর্থনীতি কিছুটা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। অনেক দেশে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে ব্যয়বহুল চামড়াজাত পণ্যের পরিবর্তে অনেক ক্রেতা তুলনামূলক কম মূল্যের সিনথেটিক বা কৃত্রিম উপকরণ দিয়ে তৈরি পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন।
তার মতে, এই পরিবর্তনের কারণে আন্তর্জাতিক চামড়া বাজারে আগের মতো চাহিদা নেই। ফলে বিশ্ববাজারে মূল্য কমে গেলে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পও চাপের মুখে পড়ে।
রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের প্রয়োজন
মন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা অনেক বেশি। দেশের উৎপাদিত চামড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম। তবে এজন্য নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করা প্রয়োজন।
তিনি মনে করেন, শুধু প্রচলিত রপ্তানি বাজারের ওপর নির্ভর না করে নতুন দেশ ও অঞ্চলে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চামড়ার গুণগত মান আরও উন্নত করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ফলে গুণগত মান, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা এখন সময়ের দাবি।
কোরবানির সময় চামড়া সংরক্ষণের গুরুত্ব
চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, কোরবানির সময় চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না হলে এর মান নষ্ট হয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ উভয়েই ক্ষতির মুখে পড়েন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যথাযথ লবণ ব্যবহার, দ্রুত সংগ্রহ এবং সঠিক পরিবহনের মাধ্যমে চামড়ার মান ধরে রাখা সম্ভব। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়ে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও বাংলাদেশের চামড়া শিল্প
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে একটি দেশের অর্থনৈতিক সংকট অন্য দেশগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলে। বিশ্ব এখন একটি পরিবারের মতো। তাই আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো নেতিবাচক পরিবর্তন ঘটলে বাংলাদেশের মতো রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতিও তার প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারে না।
তার মতে, দেশের চামড়া শিল্পকে টেকসই করতে হলে শুধু উৎপাদন বাড়ালেই হবে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বুঝে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, চামড়া শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত। তৈরি পোশাক শিল্পের পর এটিকে আরও শক্তিশালী করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি Ziaur Rahman-এর শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
সব মিলিয়ে, প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে কোরবানির চামড়ার দাম শুধু স্থানীয় বাজার নয়, বরং আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও বিশ্ববাজারের চাহিদার সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই দেশের চামড়া শিল্পকে এগিয়ে নিতে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, মান উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
